জেলার তালতলী উপজেলার সওদাগর পাড়া গ্রামের নোমর খালটির একটি অংশ পুনঃখনন কাজ শেষ। এ খালে প্রবাহিত মিষ্টি পানির ধারা স্থানীয় ৪ শতাধিক কৃষকের দীর্ঘ দিনের কষ্ট দূর করবে। বরগুনা জেলা প্রশাসন ও তালতলী উপজেলা প্রশাসন খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নিলে তা বাস্তবায়ন করে দিয়েছে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস; সহযোগিতা করে এসিএফ ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি দাতা সংস্থা।
স্থানীয় কৃষক জাকির পাহলান জানান, সওদাগরপাড়া গ্রামের ২শ’ হেক্টর জমিতে এক সময় লবণাক্ততার কারনে শুধু বর্ষা মৌসুমেই ধানের চাষাবাদ হতো। বছরের বাকিটা সময় দিনমজুরি দিয়েই সংসার চালাতেন স্থানীয় কৃষকরা। কয়েক বছর ধরে কৃষকের কঠোর পরিশ্রমে সেখানে বছরব্যাপী নানা ধরনের সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। সওদাগর পাড়া পরিচিত লাভ করে বরগুনার সবজি গ্রাম হিসেবে; -জানিয়েছেন আরেক কৃষক সগীর হোসেন। কৃষকরা জানান, তাদের এ চাষাবাদের অন্তরায় ছিলো লবনাক্ত পানি ও মাটি। গ্রামের মাঝখান দিয়ে অবস্থিত নোমরখালটির একটি অংশ ভরাট হয়ে থাকায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে এটি কোন কাজেই আসছিলোনা কৃষকদের। সম্প্রতি খালটি পুনঃখনন হওয়াতে সেটি দিয়ে পানি প্রবাহ শুরু হয়েছে। চাষাবাদে সুদিন ফেরার আশা এলাকার ৪ শতাধিক কৃষক পরিবারের।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সালমা জানিয়েছেন, বরগুনা জেলা প্রশাসন ও তালতলী উপজেলা প্রশাসন খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা এনএস এগিয়ে এসে তা বাস্তবায়ন করেছে।
উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাড. শাহাবুদ্দিন পাননা জানান, নোমরখালের ভরাট থাকা ১ হাজার ৫শ’ ফুট দীর্ঘ অংশটিকে ৪০ ফুট প্রশস্থতায়, ১০ ফুট গভীর করে পুনঃখনন কাজ শেষ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৪ লাখ টাকা। এক সপ্তাহ আগে খনন কাজ শুরু হয় এবং রোববার তা সম্পন্ন হয়েছে।
তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল মিয়া জানান, এ মৌসুমে তালতলীতে ৮শ’ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সওদাগার পাড়াতেই ২শ’ হেক্টরের বেশি জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। তালতলীতে ফি বছরে কৃষকরা গড়ে প্রায় ৬ কোটি টাকার সবজি বিক্রি করেন। সওদাগর পাড়ার লবনাক্ততা সমস্যা দূরীকরণে নোমরখালটির পুনঃখনন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।