বুধবার (১২ জুন) বিকালে বগুড়ার শহরের উপশহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৯ মামলার আসামি ব্রাজিল হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) গ্রেপ্তারের নাম আকতারুল মেম্বার। তিনি কাহালু উপজেলার সামন্তাহার( পোড়াপাড়া) এলাকার মৃত মোবা পাগলার ছেলে। এছাড়াও তিনি ব্রাজিল হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি। তবে র্যাবের দাবি, ব্রাজিল হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন এই আকতারুল মেম্বার। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকালে র্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানী কমান্ডার পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন এসব তথ্য নিশ্চি করেছেন। গত শনিবার রাতে বগুড়ার কাহালু উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের পোড়াপাড়া এলাকার তালুকদারপাড়া মোড়ে ২৯টি মামলার আসামি ও যুবদল নেতা ব্রাজিলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। বিরাজুল ইসলাম ওরফে ব্রাজিল বগুড়া শহরের চারমাথা বন্দর শাখা যুবদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি বগুড়া শহরের দক্ষিণ গোদার পাড়া এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে। সম্প্রতি একটি মামলায় জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি কাহালু উপজেলার পোড়াপাড়ায় শ্বশুরবাড়ি এলাকায় বসবাস করছিলেন। তবে বিগত কয়েক মাসে ধরে তিনি ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে উঠাবসা করছিলেন। ব্রাজিল হত্যাকাণ্ডের পরেরদিন নিহতের মা আঞ্জুয়ারা বিবি মো. মুনছুরকে প্রধানকে ৮ জনের নাম এবং অজ্ঞাত ৭/৮জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় হত্যার কারণ হিসেবে পুকুর চাষ ও রাজনৈতিক কারণে বিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়। র্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানী কমান্ডার পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, ‘মামলা করার পর র্যাবও আসামিদের ধরতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১২ জুন বিকালে উপশহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকতারুল মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ তিনি বলেন, আকতারুল মেম্বার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, প্রায় দুই বছর আগে ব্রাজিলের নেতৃত্বে তার ৫ বিঘা একটি পুকুরের মাছ বিষ দিয়ে মেরে ফেলেছিল। পরবর্তীতে এই ৫ বিঘা পুকুরটি ব্রাজিল দখল করে নেয় এবং ওই দিন রাতেই ব্রাজিলের খালাতো ভাই মন্টু তার মেজ ছেলেকে ছুড়িকাঘাতসহ বাড়িঘর লুট করে। এছাড়াও তাকে চার বার মারার চেষ্টা করেছিল এবং প্রায়ই তাকে ফোন করে বলতো বউকে বিধবা করবে। সেই ক্ষোভে সে তখন থেকেই ব্রাজিলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরই সূত্র ধরে গত ৮ জুন রাতে আকতারুল মেম্বারসহ সাত জন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্রাজিল মোটরসাইকেল নিয়ে তার বাড়ি যাওয়াার পথে পথরোধ করে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।